পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের বহু প্রতিক্ষিত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মামলার শুনানি শেষ হয়ে গিয়েছে। এবার শুধুমাত্র অন্তিম রায়ের অপেক্ষা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্য সরকারকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই লিখিত বক্তব্য জমা দিতে হবে।
এরপর কর্মচারী সংগঠনগুলি এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব বাতিল করবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে চূড়ান্ত রায়ের ঘোষণা করা হবে বলে খবর। ফলে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের এখন শুধুমাত্র আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতে হবে।
রাজ্য কী যুক্তি দিচ্ছে?
চূড়ান্ত শুনানি আগে রাজ্যের পক্ষ থেকে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল সুপ্রিম কোর্টে ৬২ পাতার একটি লিখিত জবাব দায়ের করেন। সেখানে রাজ্য মূলত দুটি যুক্তি তুলে ধরেছিল। প্রথমত ডিএ বাধ্যতামূলক নয়, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর কারণে কোনও রাজ্য সরকার ডিএ দিতে বাধ্য নয়। রাজ্য সরকারের আর্থিক পরিস্থিতি অনুযায়ী ডিএ নির্ধারণ করা যেতে পারে।
অন্যদিকে দেশের প্রায় ১৩ টি রাজ্যে কেন্দ্র সরকারের হারে ডিএ দেওয়া হয় না। শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ নয়, এই সমস্যা আরো অনেক রাজ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। রাজ্য সরকারের মূল দাবি যে, তারা সাধ্যমত ডিএ দিচ্ছে।
সরকারি কর্মচারীদের আশা
তবে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা মনে করছে, আদালত নির্দেশ দিলে হয়তো বহুদিনের বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা মিলবে। কারণ এর আগেও স্যাট থেকে শুরু করে কলকাতা হাইকোর্ট, সব জায়গাতেই কর্মচারীদের পক্ষে রায় দেওয়া হয়েছে। এখন সবাই সুপ্রিম করতে চূড়ান্ত রায়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও অন্তর্বর্তী নির্দেশ না মানার কারণে সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছিল। সে সময় বিচারপতি সঞ্জয় করোল স্পষ্ট বলে দিয়েছিলেন যে, আগেকার দিনের মহাজনদের মতো আচরণ করছে এখন রাজ্যে সরকার। টাকা জমিয়ে রেখে দিয়ে তা অন্য কাজে ব্যয় করছে।
২৭ জুনের মধ্যে ডিএ মেটানোর রায়
এদিকে গত ১৬ মে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা অন্তত ২৫% হলেও আগামী ২৭ জুনের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে। তবে রাজ্য সরকার সেই সময়সীমা মানেনি। এমনকি তারপর বহু দিন পেরিয়ে গিয়েছে।
তবে সমস্ত পক্ষের লিখিত জবাব জমা পড়ার পরপর আদালতের ছুটির সময় শুরু হবে। ফলে অনুমান করা হচ্ছে যে, আগামী দীপাবলীর ছুটির পর এই মামলার রায় ঘোষণা করা হতে পারে। এমনকি সেই আশাতেই দিন গুনছে রাজ্যের প্রায় ১০ লক্ষ সরকারি কর্মচারী।
