পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২১ সালের ক্ষমতায় ফিরে মহিলাদের জন্য চালু করেছিলেন লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প। এখানে ২৫ থেকে ৬০ বছর মহিলারা প্রতিমাসে ১০০০ টাকা করে ভাতা পান। এমনকি তপশিলি জাতি ও উপজাতি শ্রেণীর মহিলারা প্রতিমাসে ১২০০ টাকা করে পান। তবে এবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতিশ কুমার ভোটের আগে মহিলাদের জন্য বিরাট ঘোষণা করলেন। গত ২৯ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পেয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা।
হ্যাঁ, মূলত বাংলার লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের মতোই বিহারে চালু হয়েছে এই মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা। এই প্রকল্পের আওতায় প্রথমে মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে জমা দেওয়া হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য একটাই, মহিলাদের হাতে কর্মসংস্থানের চাবি তুলে দেওয়া।
কীভাবে মিলবে এই টাকা?
আসলে প্রথম ধাপে প্রত্যেক আবেদনকারী মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ১০ হাজার টাকা করে জমা হবে। এরপর ছয় মাস ধরে দেখা হবে যে, সেই টাকা দিয়ে তিনি আসলে কোনো জীবিকা বা ছোট ব্যবসা শুরু করতে পারলেন কিনা। যদি সফল হয়, তারপর ধাপে ধাপে আরও ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেবে রাজ্য সরকার।
কারা আবেদন করতে পারবে?
এই প্রকল্পে মূলত অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা, যাদের বাবা-মা জীবিত নেই তারাই একমাত্র আবেদন করতে পারবে। পাশাপাশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য হতে হবে এবং আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে হ্যাঁ, আর্থিকভাবে দারিদ্র সীমার নীচে থাকলে তবেই আবেদন করা যাবে।
কোন কোন কাজের জন্য মিলবে এই ভাতা?
সরকার ইতিমধ্যেই মহিলাদের জন্য সম্ভাব্য জীবিকার তালিকা প্রকাশ করেছে। আর সেগুলি হল—
- ফল, সবজি বা মুদিখানার দোকান।
- দুধ, ফলের রস কিংবা খাবারের দোকান।
- বিউটি পার্লার, কসমেটিক্স বা গহনার দোকান।
- মোবাইল সেলস বা রিচার্জ, স্টেশনারি ও ফটোকপির দোকান।
- পোশাক, জুতো বা দর্জির কাজ।
- বিভিন্নরকম বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বা বাসনপত্রের দোকান।
- ই-রিক্সা কিংবা অটোরিক্সা সার্ভিস।
- ছাগল, হাঁস-মুরগি বা গবাদি পশু পালন।
আরও পড়ুনঃ ১০০০ টাকা থেকে ২১০০ টাকা, বাড়ছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা! আসল বিষয় জানুন
কীভাবে আবেদন করতে হবে?
এই প্রকল্পের জন্য গ্রাম ও শহর অঞ্চলের মহিলাদের জন্য আবেদন পদ্ধতি আলাদা আলাদা রাখা হয়েছে। গ্রামের মহিলারা নিকটবর্তী কোনো পঞ্চায়েত অফিস বা গ্রামীণ উন্নয়ন দপ্তরে গিয়ে অফলাইনের মাধ্যমে এই প্রকল্পের আবেদন সেরে নিতে পারবে।
তবে শহরাঞ্চলের মহিলাদের জন্য খুব শীঘ্রই সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হবে। আর আবেদনের সময় ঠিকানা, আধার নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের যাবতীয় তথ্য জমা দিতে হবে। যাচাই সম্পন্ন হলেই সরকার সরাসরি মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা দেবে।
