মেলে মোটা অঙ্কের অর্থ সাহায্য, কৃষকদের জন্য কেন্দ্রের সেরা ৫ স্কিম

ভারতবর্ষের বেশিরভাগ মানুষই কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। তবে অনেক সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা চাষের খরচ বৃদ্ধি বা বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ার কারণে কৃষকরা সমস্যার সম্মুখীন হয়।

আর ঠিক সে কারণেই তাদেরকে আর্থিক সাহায্য করার জন্য কেন্দ্র সরকার বিভিন্ন রকম প্রকল্প (Farmer Scheme) চালু করে রেখেছে। এমনকি সেই প্রকল্পগুলি থেকে মোটা অংকের আর্থিক সাহায্য মেলে। আজকের প্রতিবেদনে এমন পাঁচটি স্কিম সম্পর্কে কথা বলব, যেগুলি কৃষকদের জন্য সোনায় সোহাগা বলা চলে।

প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনা 

এই প্রকল্পটি কেন্দ্র সরকার ২০১৮ সালে চালু করেছিল। দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য এই প্রকল্পের ভূমিকা অপরিসীম। হ্যাঁ, এই প্রকল্পের আওতায় বছরে ৬০০০ টাকা করে কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয় এবং তিন কিস্তিতে এই টাকা জমা পড়ে। অর্থাৎ প্রতি কিস্তিতে ২০০০ টাকা করে দেওয়া হয় এবং সরাসরি ডিবিটি ট্রান্সফারের মাধ্যমে এই টাকা ঢোকে।

এই প্রকল্পে আবেদন করতে গেলে নিকটবর্তী কোনও কমন সার্ভিস সেন্টারে বা রাজ্যের কৃষি দপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। এর জন্য জমির দলিল, আধার কার্ড ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ডিটেলস দরকার পড়ে।

প্রধানমন্ত্রী কৃষি মানধন যোজনা

এই প্রকল্পটি কৃষকদের জন্য পেনশন দেয় যা কৃষকদের বার্ধক্য জীবনকে আরো স্বাচ্ছন্দ্যে রাখতে সাহায্য করে। এই প্রকল্পে মূলত ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সের কৃষকরা আবেদন করতে পারে। তবে এখানে প্রতিমাসে ৫৫ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত অবদান রাখতে হয়। কেন্দ্র সরকার ওই সমপরিমাণ টাকা যোগ করে ৬০ বছরের পর পেনশন দেয়। উল্লেখ্য, এখানে প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে পেনশন মেলে।

প্রধানমন্ত্রী কৃষি সেচ যোজনা

প্রধানমন্ত্রী কৃষি সেচ যোজনার আওতায় শুষ্ক অঞ্চল, বর্ষা নির্ভর এলাকা বা যেখানে জলের অভাব থাকে, সেই সমস্ত জায়গাগুলিতে সেচ ব্যবস্থা চালু করে দেওয়া হয়। এছাড়াও রয়েছে জল সংরক্ষণ বা খাল সংস্কার কিংবা জলাশয় তৈরির মতো সুবিধা। যে সমস্ত কৃষকদের জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল থাকে না, তাদের কাছে এই প্রকল্প এক কথায় সময় সোহাগা।

প্রধানমন্ত্রী ধনধান্য কৃষি যোজনা

কেন্দ্রের এই প্রকল্পটি ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে চালু হয়েছে এবং দেশের ১০০ টি পিছিয়ে পড়া কৃষি জেলার উন্নয়নের জন্য বিরাট ভূমিকা রাখছে। জানা যাচ্ছে, এই স্কিমে কৃষকদের আধুনিক বীজ, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও সরাসরি বিপণন সুবিধা একদম ফ্রিতে দেওয়া হচ্ছে। তাই যে সমস্ত জেলার কৃষকরা পিছিয়ে রয়েছে, তারা এই প্রকল্পের আওতায় প্রচুর সুবিধা পাবে। 

আরও পড়ুনঃ অষ্টম বেতন কমিশনে কর্মীদের বেতন কমবে? দেখে নিন হিসাব

প্রধানমন্ত্রী কৃষি উড়ান যোজনা

এই প্রকল্পটি ২০২০ সালে চালু করা হয়েছিল। মূলত কৃষি পণ্যের দ্রুত পরিবহনের জন্যই এই প্রকল্প চালু করা। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারত, পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চলগুলির ফসল যাতে শহর অঞ্চলে ঠিকমতো নিয়ে যাওয়া যায়, সেজন্যই এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, এই প্রকল্পের আওতায় কেন্দ্রীয় সরকার দেশের ৫৮ টি বিমানবন্দর থেকে কৃষি পণ্য পরিবহনের সুযোগ করে দেয়।

Leave a Comment