SIR Started: আজ থেকেই শুরু বাংলায় SIR, এবার কী করতে হবে জানুন

পশ্চিমবঙ্গে আজ থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে ভোটার তালিকা (Voter List) মেলানোর বিশেষ প্রক্রিয়া। হ্যাঁ, মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক দপ্তরের জরুরী নির্দেশে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় নির্বাচনের আধিকারিকরা দ্রুত এই কাজ সম্পন্ন করবে বলে খবর। মূল লক্ষ্য একটাই, ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং নির্ভুলতা নিশ্চিত করা।

কেন এই ভোটার তালিকা মেলানো হচ্ছে?

আসলে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে ২০২৫ সালের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখা হবে। আর এতে স্পষ্ট হবে যে, কে বাদ পড়ছে, এমনকি কার নামের বানান বা তথ্য ভুল রয়েছে। পাশাপাশি কে ঠিকানা বদলেছে, তাও বোঝা যাবে। অর্থাৎ, ভুল ত্রুটি দূর করে এবার আগামী নির্বাচনগুলোর জন্য নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রস্তুত করাই কমিশনের মূল উদ্দেশ্য।

কীভাবে হবে এই কাজ?

যেমনটা খবর, এই ভোটার তালিকা যাচাই করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সমস্ত বুথ লেভেল অফিসারদের। তাদের হাতে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার হার্ড কপি এবং ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা তুলে দেওয়া হবে। তারপর নিন্মলিখিত পদ্ধতিতে যাচাই বাচাই করা হবে।

  • প্রথমত, তাঁরা প্রতিটি নাম খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে মিলিয়ে দেখবে।
  • দ্বিতীয়ত, যদি কারো নাম ২০০২ সালের তালিকায় না থাকে, তাহলে তাঁর বাবা-মায়ের নাম দিয়ে তথ্য যাচাই করা হবে।
  • তৃতীয়ত, বুথ লেভেল অফিসারদের প্রতিদিন ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কাছে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
  • চতুর্থত, জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা প্রতিদিন অনলাইনের মাধ্যমে সেই তথ্য আপডেট করবেন।
  • পাশাপাশি এই গোটা প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে থাকবে বিএলও সুপারভাইজার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার এবং ERO।

প্রশিক্ষণ এবং নজরদারি

তবে তালিকায় যাতে কোথাও কোনও কারচুপি না থাকে, তার জন্য বুথ লেভেল অফিসারদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে খবর। এর জন্য শীঘ্রই অফিসিয়াল একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে। এছাড়া ভারতের নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার আগামী ১৮-১৯ সেপ্টেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি ২০ সেপ্টেম্বর সার্বিক পর্যালোচনা হবে।

আরও পড়ুনঃ পশ্চিমবঙ্গের ডোমিসাইল সার্টিফিকেট কী করে পাবেন? জেনে নিন

ভোটার তালিকায় কেন এই নিবিড় সংশোধন জরুরী?

আসলে ভোটার তালিকায় নির্ভুলতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা রকম প্রশ্ন উঠছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, মৃত ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় রয়ে গিয়েছে কিংবা প্রকৃত ভোটার বাদ পড়েছে। আর এই পুনর্নবীকরণের ফলে সেই ভুলত্রুটি অনেকটাই দূর হবে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষিত হবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা আরও বাড়বে, তা বলার অপেক্ষা না।

Leave a Comment