মাসে মিলবে ৫০০০ টাকা, চালু হল শ্রমশ্রী পোর্টাল! কী কী কাগজ লাগবে দেখুন

রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য নবান্ন থেকে বড়সড় ঘোষণা করা হল। হ্যাঁ, সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে যে শ্রমশ্রী প্রকল্প চালু হয়েছে, তার জন্য শ্রমশ্রী পোর্টাল চালু করা হচ্ছে।

আর এর মাধ্যমে পরিযায়ী শ্রমিকরা শুধুমাত্র আর্থিক সহায়তা পাবে না, বরং মর্যাদার সঙ্গে নিজেদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পারবে। 

মন্ত্রী এদিন জানিয়েছেন, বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর বারবার অত্যাচারের করা হচ্ছে। কোথাও তাদের বাংলাদেশী বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে, আবার কোথাও কোথাও ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এমনকি বহু শ্রমিক জোর করে পুশব্যাকের মুখেও পড়েছেন। আর এই পরিস্থিতিতে হাজার হাজার মানুষ কাজের জায়গা ছেড়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে। তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই রাজ্য সরকারের এই নতুন উদ্যোগ।

চালু হয়েছে অফলাইনে আবেদন

প্রসঙ্গত এই প্রকল্পে ২১ আগস্ট থেকে অফলাইনে আবেদন শুরু হয়েছে এবং ইতিমধ্যে ২০ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। আর এখান থেকে সেই তথ্য ধাপে ধাপে পোর্টালে আপলোড করা হবে। শ্রমিকরা চাইলে খুব সরাসরি অনলাইনের মাধ্যমেও আবেদন করতে পারবে।

কী কী সুবিধা মিলবে?

শ্রমশ্রী প্রকল্পের আওতায় যারা কাজ পাচ্ছেন না, তাদেরকে এক বছর ধরে প্রতি মাসে ৫০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। এমনকি এই প্রকল্পের আওতায় স্বাস্থ্য সাথী, থেকে শুরু করে রেশন, খাদ্য সাথী, আবাস যোজনার ঘর, সবকিছু সুবিধাই দেওয়া হবে।

শ্রমশ্রী পোর্টাল কীভাবে কাজ করবে?

সম্প্রতি চালু হওয়া শ্রমশ্রী পোর্টালের মাধ্যমে আবেদনকারীরা খুব সহজেই অনলাইনের মাধ্যমে নিজেদের নাম রেজিস্টার করতে পারবে। এমনকি আবেদনপত্রের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে পারবে এবং প্রকল্পের সমস্ত সুবিধাগুলি জানতে পারবে।

এর পাশাপাশি স্কিমে অন্তর্ভুক্ত নানা রকম প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থান সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে। এক কথায় এই পোর্টালের মাধ্যমে একটি কেন্দ্রীভূত তথ্যভাণ্ডার তৈরি হতে চলেছে।

কীভাবে আবেদন করবেন?

যে সমস্ত শ্রমিকরা এখানে আবেদন করতে চান, তারা অনলাইনে অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমেই আবেদন সেরে নিতে পারবেন। এর জন্য আবেদন ফর্ম পূরণ করে নথিপত্র আপলোড করলেই হয়ে যাবে। তবে যারা অনলাইনে আবেদন করতে সমস্যায় পড়েন, তারা কোনো ব্লক বা পঞ্চায়েত অফিসের সহায়তা কেন্দ্রে গিয়ে অফলাইনের মাধ্যমে আবেদন সেরে নিতে পারবেন।

আরও পড়ুন: DA মামলার শুনানির আগেই সুখবর! সরকারি কর্মীদের বহুদিনের দাবি মেনে নিল সরকার

কী কী ডকুমেন্ট দরকার হবে?

এই স্কিমে নাম নথিভুক্ত করার জন্য আধার কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড, রেশন কার্ড, আগের কর্মস্থলের তথ্য, নিজের সাম্প্রতিক ছবি, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ডিটেইলস, ঠিকানার প্রমাণপত্র এবং মোবাইল নম্বর ও ইমেইল আইডি দরকার পড়বে।

রাজ্য সরকার দাবি করছে, এই প্রকল্প চালু হওয়ার পর বহু শ্রমিক আর্থিক অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পাবে। এমনকি শুধুমাত্র টাকা নয়, বরং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করে দেওয়া হবে।

Leave a Comment