LIC New Jeevan Shanti Plan: প্রতি মাসে মিলবে ১১,৪০০ টাকা, LIC-র এই স্কিম সম্পর্কে অনেকেই জানেনা

ভবিস্যত সুরক্ষিত রাখতে সবাই চায়। অনেকেই বীমার উপরে নির্ভর করে থাকে। এমনকি অনেকেরই অবসর তহবিল থাকে, তবে নিয়মিত কোনো পেনশনের নিশ্চইতা থাকে না। আর ঠিক সেই কারণে LIC এনেছে বিশেষ একটি স্কিম—নিউ জীবন শান্তি প্ল্যান (LIC New Jeevan Shanti Plan)

সবথেকে বড় ব্যাপার, এখনো দেশের অর্ধেক মানুষ এই স্কিম সম্পর্কে সেরকম কোনো খোঁজ খবর রাখে না। অথচ এখানে একবার টাকা বিনিয়োগ করলেই আজীবন নিশ্চিন্তে পেনশন পাওয়া যায়। এমনকি বছরে সর্বোচ্চ ১,৪২,৫০০ টাকা পর্যন্ত মেলে।

নিউ জীবন শান্তি প্ল্যান আসলে কী?

জানিয়ে রাখি, এটি একটি সিঙ্গেল প্রিমিয়াম ডিএফেররেড অ্যানুইটি প্ল্যান। মোদ্দা কথা, গ্রাহককে একবার এখানে প্রিমিয়াম জমা দিতে হয়, আর এরপর নির্দিষ্ট সময় পেরোলেই আজীবন পেনশন পাওয়া শুরু হয়।

এখানে মূলত দুটি বিকল্প রয়েছে। প্রথমত, একক জীবন পরিকল্পনা, যেখানে বীমা গ্রহণকারী বেঁচে থাকা পর্যন্ত পেনশন পায় এবং মৃত্যুর পর টাকা মনোনীত ব্যক্তির কাছে যায়। আর দ্বিতীয়ত, যৌথ জীবন পরিকল্পনা, যেখানে প্রথম ব্যক্তি মারা গেলে যুক্ত থাকা দ্বিতীয় ব্যক্তি আজীবন পেনশন পায়।

বিনিয়োগের নিয়ম

যেমনটা জানা যাচ্ছে, এখানে সর্বনিম্ন ১.৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করা যায়। তবে বিনিয়োগের কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই, যত খুশি বিনিয়োগ করা যায়। এখানে বিনিয়োগ করতে গেলে ৩০ থেকে ৭৯ বছর পর্যন্ত বয়স লাগে। তবে কমপক্ষে ১ বছর এবং সর্বোচ্চ ১২ বছরের জন্য বিনিয়োগ করতে হয়। এমনকি এখানে মাসিক, ত্রৈমাসিক, অর্ধ-বার্ষিক বা বার্ষিক হিসেবে পেনশন তোলার সুযোগ সুবিধা রয়েছে।

কীভাবে ১,৪২,৫০০ টাকা পেনশন মিলবে?

ধরুন, কেউ ৪৫ বছর বয়সে এই স্কিমে ১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলেন এবং ১২ বছরের ডিফারমেন্ট পিরিয়ডে রেখে দিলেন। তাহলে ৫৭ বছর বয়স থেকেই তিনি পেনশন পেতে শুরু করবেন। সেক্ষেত্রে বার্ষিক ১,৪২,৫০০ টাকা, অর্ধবার্ষিক অর্থাৎ প্রতি ছয় মাসে ৬৯,৮২৫ টাকা, প্রতি তিন মাসে ৩৪,৫৫৬ টাকা এবং প্রতি মাসে ১১,৪০০ টাকা করে পেনশন পাবে। অর্থাৎ একবার বিনিয়োগ করলে জীবন নিশ্চিন্ত।

যৌথ জীবন পরিকল্পনায় কীভাবে টাকা রাখা যাবে?

এক্ষেত্রেও একই শর্ত। ৪৫ বছর বয়সে যদি ১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করা যায় এবং ১২ বছরের ডিফারমেন্ট পিরিয়ড ধরা হয়, তাহলে যৌথ প্ল্যানে বার্ষিক ১,৩৩,০০০ টাকা পর্যন্ত পেনশন মিলবে। তবে এর মূল বিশেষত্ব হল প্রথম ব্যক্তির মৃত্যুর পরেও দ্বিতীয় ব্যক্তি আজীবন ধরে পেনশন পাবে।

আরও পড়ুনঃ ই-শ্রম কার্ড থাকলেই ফোনে আসছে এই মেসেজ! প্রতি মাসে মিলবে ৩০০০ টাকা

রয়েছে আরো বেশ কিছু সুবিধা

তবে এই স্কিমে বিনিয়োগ করলে আরো বেশ কিছু সুবিধা পাওয়া যায়। প্রথমত, যদি ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে, তাহলে খুব সহজেই এখানে ঋণ নেওয়া যায়। পাশাপাশি মৃত্যুর পর নির্ধারিত অর্থ নমিনির কাছে পৌঁছে যায় এবং স্যারেন্ডারের সুবিধা রয়েছে। অর্থাৎ যদি মাঝপথে পলিসি পছন্দ না হয়, তাহলে গ্রাহকরা চাইলে তা বাতিল করে দিতে পারবে এবং সম্পূর্ণ টাকা ফেরত পাবে।

Leave a Comment