দেশের অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করা দিনমজুর, রিকশাচালক, গৃহ শ্রমিক কিংবা কৃষি শ্রমিকদের জন্য এবার বিরাট স্বস্থির খবর। ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চালু করেছিলেন ই-শ্রম কার্ড (e-Shram)। আর তখন অনেকেই ভেবেছিলেন যে, এটি শুধুমাত্র একটি পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করবে। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এই কার্ড থেকেই প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে পেনশন মিলছে।
কী রয়েছে এই ই-শ্রম কার্ডে?
বলে রাখি, ই-শ্রম কার্ড মূলত অসংগঠিত ক্ষেত্রে শ্রমিকদের জন্য সরকারের একটি জাতীয় ডাটাবেস হিসেবে কাজ করে। আর এই কার্ড থাকলে শুধুমাত্র পরিচয়পত্র নয়, বরং একগুচ্ছ সুবিধাও মেলে। সবথেকে বড় ব্যাপার, ৬০ বছরের পর প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা পেনশন মেলে। এর পাশাপাশি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে ২ লক্ষ টাকা বীমা ও স্থায়ী প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রে ১ লক্ষ টাকার বীমার সুবিধা পাওয়া যায়।
শুধু তাই নয়, এই প্রকল্পের আওতায় স্ত্রীর জন্য সেলাই মেশিন, সন্তানের পড়াশোনার খরচে আর্থিক সাহায্য, বিনামূল্যে সাইকেল, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পের আওতায় বাড়ি তৈরি করার সুযোগ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে শ্রমিক পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য এই কার্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফোনে আসছে এসএমএস
তবে সম্প্রতি যাদের ই-শ্রম কার্ড রয়েছে, তাদের অনেকের মোবাইলে এসএমএস আসছে। সেই মেসেজে বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী মানধন যোজনার আওতায় এখন থেকেই ৩০০০ টাকা মাসিক পেনশনের সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে শর্ত মানতে হবে একটাই। প্রতি মাসে ৫৫ টাকা করে কন্ট্রিবিউশন করতে হবে। আর এই টাকা জমা পড়লেই ভবিষ্যতে নিশ্চিন্তে প্রতি মাসে পেনশন মিলবে।
কারা ই-শ্রম কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন?
এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে হলে আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ১৬ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে। পাশাপাশি অবশ্যই অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করতে হবে। যেমন দিনমজুর, রিকশাচালক, গৃহ শ্রমিক বা কোনো কৃষি শ্রমিক। পাশাপাশি আয়কর দাতা বা ইপিএফও-এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত কর্মীরা এই প্রকল্প সুবিধা পাবে না।
কীভাবে ই-শ্রম কার্ডের জন্য আবেদন করবেন?
ই-শ্রম কার্ডের জন্য আবেদন করতে হলে প্রথমে ই-শ্রমের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (https://eshram.gov.in/) যেতে হবে। তারপর ‘New Registration’ অপশনটিতে ক্লিক করতে হবে। এরপর আধার লিঙ্কড মোবাইল নম্বর দিয়ে ওটিপি ভেরিফাই করতে হবে। তারপর ব্যক্তিগত ও ব্যাংক সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য পূরণ করতে হবে। তারপর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করে ফর্ম সাবমিট করে দিতে হবে।
কী কী ডকুমেন্ট লাগবে?
এই ই-শ্রম কার্ডের জন্য আবেদন করতে হলে যে ডকুমেন্টগুলি দরকার হয় সেগুলি হল—
- আধার কার্ড
- আধার লিঙ্কড মোবাইল নম্বর
- প্যান কার্ড
- ব্যাংক অ্যাকাউন্টের জেরক্স এবং
- রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি
আরও পড়ুনঃ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়ে মহিলাদের স্বাবলম্বী করবে সরকার, এই রাজ্যে চালু হলো স্টার্ট আপ ভাতা
কবে থেকে পেনশন শুরু হবে?
জানা যাচ্ছে, এই প্রকল্পে অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হবে। তারপর যাচাই করা হয়ে গেলে ১ থেকে ২ মাসের মধ্যেই সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা করে পেনশনের টাকা জমা হবে। আর এটি প্রতি মাসের নির্দিষ্ট তারিখেই দেওয়া হবে। আপনি চাইলে আপনার আবেদনের রেফারেন্স নম্বর দিয়ে স্ট্যাটাস চেক করে নিতে পারেন।
তবে যাদের আগে থেকেই ই-শ্রম কার্ড রয়েছে বা বর্তমানে ৬০ বছর পূর্ণ করেছেন, তাদের নতুন করে শুধুমাত্র পেনশন স্কিমের জন্যই আবেদন করতে হবে। আলাদা করে কার্ড বানানোর দরকার নেই। কোনো কমন সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে শুধুমাত্র বয়স ও ব্যাংকের সমস্ত তথ্য যাচাই করলেই হয়ে যাবে।
