সম্প্রতি SSC অর্থাৎ স্টাফ সিলেকশন কমিশনের একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, যা নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চরম উদ্বেগ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র নিয়ে আলোচনা, বিশ্লেষণ বা প্রচার করা এবার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আগের নিয়মে শুধুমাত্র চলমান পরীক্ষার জন্যই প্রযোজ্য ছিল। তবে এখন এটি সম্পূর্ণ পরীক্ষা পর্যন্ত প্রযোজ্য করা হচ্ছে।
নতুন নিয়মে কী বলা হচ্ছে?
এসএসসির নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরও প্রশ্নপত্র নিয়ে কোনও আলোচনা বা বিশ্লেষণ করতে পারবে না। এমনকি নিয়ম ভঙ্গ করলে পাবলিক এক্সামিনেশন অ্যাক্ট ২০২৪ অনুযায়ী কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
শাস্তির ধরণ
যদি কোনও সাধারণ ব্যক্তি এই নিয়ম লঙ্ঘন করে, তাহলে তাকে তিন থেকে পাঁচ বছরের জেল এবং সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হতে পারে। যদি কোনও প্রতিষ্ঠান বা কোচিং সেন্টার এই নিয়ম লঙ্ঘন করে, তাহলে ১ কোটি টাকা জরিমানা এবং ভবিষ্যতের সমস্ত পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হবে। যদি কোনও সংগঠিত অপরাধচক্র এই তথ্য প্রকাশ করে, তাহলে পাঁচ থেকে দশ বছরের জেল এবং নূন্যতম ১ কোটি টাকা জরিমানা করা হবে।
ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষকদের উপর প্রভাব
প্রসঙ্গত, এই নিয়মের ফলে পূর্ববর্তী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেখে বই তৈরি বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আলোচনা এবার অসম্ভব হয়ে পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনকি প্রশ্নপত্র আলোচনা বন্ধ হলে উত্তরপত্রের স্বচ্ছতাও প্রশ্নের মুখে দাঁড়াতে পারে। তাছাড়া পরীক্ষার্থীরা পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে প্রস্তুতি নিত। নতুন নিয়মে সেই দরজা পুরো বন্ধ হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ স্বাস্থ্য সাথী দিয়ে কাজ হবে না, লাগবে এই ডকুমেন্ট! বড় সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের
সৃষ্টি হয়েছে চরম বিতর্ক
তবে শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরা নতুন এই নিয়মে যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তারা মনে করছে যে, প্রশ্নপত্র নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে পরীক্ষার্থীরা আগের ভুল বুঝতে পারে এবং পরবর্তী পরীক্ষার জন্য আরো ভালো প্রস্তুতি নিতে পারে। অনেকে মনে করছে, এটি ঠিক পরীক্ষার্থীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতাতে হস্তক্ষেপ।
কিন্তু এসএসসির নির্দেশনা মেনে চলা প্রতিটি পরীক্ষার্থীর কর্তব্য। সে কারণেই প্রশ্নপত্র বা তার ছবি সোশ্যাল মিডিয়া বা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কিংবা অন্য কোনও মাধ্যমে শেয়ার করবেন না। পাশাপাশি বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনার সময়ে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
