সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আবারও দেখা যাচ্ছে উত্তেজনা। কারণ অষ্টম বেতন কমিশনের নতুন প্রস্তাবের খবরে এবার ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। বেতন সত্যি বাড়বে, নাকি বিভিন্ন রকম ভাতা ছাঁটাই হবে? ২০১৬ সালে সপ্তম বেতন কমিশনের পর এবার অষ্টম বেতন কমিশনের পালা। তা নিয়েই চিন্তিত বহু কর্মচারী।
অষ্টম বেতন কমিশনের মূল লক্ষ্য কী?
আসলে কেন্দ্রীয় সরকার প্রতি ১০ বছর অন্তর পে কমিশন গঠন করে, যা সরকারি কর্মচারীদের বেতন এবং ভাতা নির্ধারণ করে। অষ্টম বেতন কমিশনে মূলত ভাতা কাঠামোক সরল ও স্বচ্ছ করার উপরেই জোর দিচ্ছে সরকার। শোনা যাচ্ছে যে, এবার বেতন বৃদ্ধির চেয়ে ভাতা পুনর্গঠন বেশি হবে।
সপ্তম বেতন কমিশনের সময় ১৯৬ টি ভাতা পর্যালোচনা করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৫২ টি বাতিল করা হয়েছিল এবং ৩৬ টিকে একত্রিত করা হয়। এবারও সেরকম কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
কোন কোন ভাতায় পরিবর্তন আসতে পারে?
এখনো পর্যন্ত বেশ কিছু বিশেষজ্ঞ যা অনুমান করছে, এবার বিভিন্ন রকম ভাতায় পরিবর্তন আসবে। সেগুলি হল—
- ভ্রমণ ভাতা এবার হ্রাস বা পুনর্গঠন হতে পারে।
- প্রয়োজনীয়তা কম থাকায় বিশেষ শুল্ক ভাতা বাতিল হয়ে যেতে পারে।
- অন্যান্য ভাতার সঙ্গে মিল থাকার কারণে আঞ্চলিক ভাতা বাতিলের সম্ভাবনা রয়েছে।
- দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ব্যবহারহীন হিসেবে থাকার কারণে পুরনো বিভাগীয় ভাতা বাতিলের সম্ভাবনা রয়েছে।
এর ফলে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন এবং ডিএ বাড়তে পারে। কারণ ভাতার জন্য বরাদ্দ অর্থ এই দুটি মূল অংশে যোগ করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, নতুন এই ব্যবস্থা চালু হলে বেসিক পে অনেকটাই বাড়বে। ফলে পেনশন হিসাব করতে অসুবিধা থাকবে না। পাশাপাশি কাগজপত্রের কাজ কমে ত্রুটিমুক্ত প্রশাসনিক পরিষেবা সম্ভব হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বেতন কাঠামো আরো স্বচ্ছ ও যুক্তিযুক্ত হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আরও পড়ুনঃ আমাদের পাড়া আমাদের সমাধানে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ নবান্নের, কোন খাতে হবে খরচ?
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
তবে এখনো পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার পর আশা করা হচ্ছে যে, ২০২৫ সালের শেষ বা ২০২৬ এর শুরুতেই নতুন আপডেট আসতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছে, ভাতার পুনর্গঠন কর্মচারীদের প্রচুর উপকারে আসবে। কিন্তু ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির কারণে কমিশন আরো কম সময়ের মধ্যে তা পর্যালোচনা করতে পারে।
