চাকরি যাওয়ার পর এবার ফেরত দিতে হবে টাকাও। হ্যাঁ, শুধু টাকাই নয়, বরং সেই সঙ্গে মোটা অংকের সুদও ধার্য করা হয়েছে।
২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে গোটা প্যানেল বাতিল হয়েছে, যার জেরে চাকরি হারিয়েছে ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী। আর এদের মধ্যে যারা বেআইনি ভাবে চাকরি পেয়েছিল, সেই দাগি প্রার্থীদের এতদিনের সব বেতন এবং ১২% হারে সুদ ফেরত দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
কীভাবে ফাঁস হয়েছে এই কেলেঙ্কারি?
প্রসঙ্গত, গত ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বেআইনিভাবে দেওয়া নিয়োগগুলিকে বাতিল করতে হবে। এরপর থেকে একের পর এক তালিকা প্রকাশ করতে শুরু করে স্কুল সার্ভিস কমিশন। তবে সম্প্রতি প্রকাশিত তালিকায় ১৮০৬ জনের নাম সামনে এসেছে। কিন্তু আইনজীবী ফিরদৌস শামীম দাবি করছে, এই তালিকা অসম্পূর্ণ। আরও অনেকের নাম আসতে পারত।
প্রসঙ্গত, তালিকায় শুধুমাত্র সাধারণ প্রার্থীরাই নয়, বরং শাসকদলের নেতা নেত্রীদের আত্মীয় থেকে শুরু করে বিরোধীদলগুলির নেতা ও পরিবারের সদস্যরাও যুক্ত রয়েছে।
অভিযোগ উঠছে, চাকরি পেতে ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়েছে অনেকে। কেউ আবার ঘটি-বাটি বিক্রি করে সেই টাকা জোগাড় করেছে। তবে সবাই যে টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছে, এমনটাও নয়। কিছু কিছু প্রার্থীরা রাজনৈতিক যোগে যুক্ত হয়েছে।
কত টাকা দিতে হবে দাগিদের?
আইনজীবী ফিরদৌস শামিম হিসাব করে বলেছেন যে, গড়ে একজন দাগি ব্যক্তি ১০ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়েই চাকরি পেয়েছিল। এবার সেই চাকরি চলে যাওয়ার পর ফেরত দিতে হবে অন্তত ৫ বছরের বেতন সহ তার ওপর আরো ১২% সুদ।
সেই হিসেবে, নবম-দশম শ্রেণীর শিক্ষকদের প্রাথমিক বেতন ধরা হয় ৪০ হাজার টাকা। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট বেতন দাঁড়াবে ২৪ লক্ষ টাকা। আর ঘুষের টাকা যোগ করলে আরো ১০ লক্ষ টাকা, অর্থাৎ সুদ সহ ৩৪ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে হবে।
আরও পড়ুন: SC, ST, OBC না! এবার জেনারেলরাও পাবে সংরক্ষণ, নতুন EWS সার্টিফিকেট চালু করছে রাজ্য
একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষকদের শুরুতে বেতন ৪৪ হাজার টাকা। পাঁচ বছরে তাদের বেতন দাঁড়াবে মোটামুটি ২৬ লক্ষ টাকা। সঙ্গে ঘুষের টাকা এবং সুদ ধরলে একজন প্রার্থীর ৩৬ লক্ষ টাকা গুনতে হবে। মোদ্দা কথা, যারা অবৈধভাবে চাকরি পেয়েছিল, তাদের এখন শুধু হতাশা নয়, বরং মাথায় চাপ বসেছে কোটি কোটি টাকা দেনার।
